পরিবার, সমাজ ও তরুণদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ
মাদক, কিশোর গ্যাং ও তরুণদের অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে কুমিল্লায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে শতাধিক সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সচেতন শিক্ষার্থীরা। ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সাংগঠনিক ভিন্নতা ভুলে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটে ‘মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও তরুণদের করণীয়’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।


আলোচনায় বক্তারা বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নয়, এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক সমাজের জন্য একটি গুরুতর সংকট। তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবারের দায়িত্বশীল ভূমিকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় কোনো একক ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া তরুণদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁরা এমন একটি কুমিল্লা গড়তে চান, যেখানে কোনো তরুণ মাদকের কাছে পরাজিত হবে না, কোনো কিশোর অপরাধী চক্রে জড়াবে না এবং তরুণদের শক্তি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ উদ্যোগ কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা সাংগঠনিক বিভাজনের বিষয় নয়। কুমিল্লার তরুণ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখা এবং মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।


সভায় কিশোরদের সঙ্গে পরিবারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহযোগিতা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
সচেতন নাগরিকদের মতে, কুমিল্লায় শতাধিক সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। তরুণদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে মানবিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।












