রাজধানী শেরেবাংলা নগর থানায় মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের শ্যালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের পর ওবায়দুরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য এদিন নির্ধারণ করেন।
এদিন আদালতে রিমান্ডের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক, তাদের কথিত বিয়ে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে ওবায়দুর অবগত ছিলেন। বিষয়টি আত্মহত্যা নাকি হত্যার ঘটনা, তা উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেন।
তবে রিমান্ডের বিরোধিতা করে ওবায়দুরের আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের সম্পর্কের বিষয়ে ওবায়দুর প্রতিবাদ করেছিলেন।
তার দাবি, মরিয়মের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানার জন্যই ওবায়দুর তার প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। আইনজীবী আরও বলেন, মামলায় ওবায়দুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা নেই। বিয়েতে সাক্ষী থাকা আর আত্মহত্যায় প্ররোচনার সঙ্গে জড়িত থাকা এক বিষয় নয়। তাই রিমান্ড বাতিল করে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।












