কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্বামীর পাঠানো ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে কথিত প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পপি আক্তার নামের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কুমিল্লা জজ কোর্টে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেছেন শ্বশুর। অভিযোগ নম্বর ১৪৩১২।
অভিযুক্ত পপি আক্তার বুড়িচং সদর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি শরীফুল ইসলামের স্ত্রী। জীবিকার তাগিদে গত পাঁচ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন শরীফুল ইসলাম। সেখানে চাকরি করার পাশাপাশি স্ত্রীর খরচ ও সংসারের প্রয়োজনে ইসলামী ব্যাংকের বুড়িচং শাখায় স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন তিনি।
নালিশি অভিযোগে বাদী দাবি করেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সুযোগে পুত্রবধূ বিভিন্ন পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন বাদী নির্ধারিত সময়ে নানুয়ারা বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্ত নারী বাড়ির আলমারিতে রাখা নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। অভিযোগে এসব অর্থ ও স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন, তাঁর পুত্রবধূ কথিত প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ এনে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তের স্বামী শরীফুল ইসলাম বলেন, “প্রবাসে থেকে আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কষ্ট করে উপার্জন করে সংসারের জন্য নিয়মিত টাকা পাঠিয়েছি। স্ত্রী ও পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই নিজের উপার্জনের বড় একটি অংশ দেশে পাঠাতাম। কখনো ভাবিনি, আমার অনুপস্থিতির সুযোগে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমার পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পপি আক্তার বা তাঁর পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।












