আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই নানা ধরনের পূর্বাভাস আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষক, সাবেক ফুটবলার এবং বেটিং সংস্থাগুলোর পর এবার বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ফরাসি ডেটা অ্যানালিটিক্স ও এআইভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এভিআইএসআইএ সম্প্রতি একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তৈরি মডেল কেবল সাম্প্রতিক ফলাফলের ওপর নির্ভর করেনি। বরং দলগুলোর আক্রমণ ও রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য, খেলোয়াড়দের ফিটনেস, স্কোয়াডের গভীরতা, বাজারমূল্য এবং তারকা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সসহ হাজারো পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এছাড়া এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি), সুযোগ তৈরির হার, বল পুনরুদ্ধার এবং দুই বক্সে কার্যকারিতার মতো উন্নত সূচকও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
সব তথ্য বিশ্লেষণের পর এআই মডেল ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ের প্রধান দুই দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দুই দলেরই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ২১ শতাংশ করে ধরা হয়েছে।
ফ্রান্সের ক্ষেত্রে মডেলটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে দলটির শক্তিশালী আক্রমণভাগকে। ওসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং মাইকেল অলিসেকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দলটির রক্ষণভাগ এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেসও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সেরাদের কাতারে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে গড়ে ওঠা দলীয় সমন্বয়ের কারণে শীর্ষ দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মডেলটি লিওনেল মেসির নেতৃত্ব, দলের সমন্বয় এবং বড় ম্যাচে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অসাধারণ পারফরম্যান্সকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
স্পেন, ব্রাজিল ও পর্তুগালও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী
ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার ঠিক পেছনেই রয়েছে স্পেন। এআইয়ের হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। বল দখলভিত্তিক খেলার ধরন, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং রদ্রির নেতৃত্ব স্পেনকে অন্যতম শীর্ষ দাবিদার করে তুলেছে।
এরপর রয়েছে ব্রাজিল ও পর্তুগাল। দুই দলেরই শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ করে ধরা হয়েছে। ব্রাজিলের ক্ষেত্রে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত ভারসাম্য এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার মতো তারকাদের অবদানকে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে।
অন্যদিকে, বার্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ভিতিনিয়াকে নিয়ে গড়া পর্তুগালের মিডফিল্ড এবং গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দলটিকে অন্যতম ফেবারিটের তালিকায় রেখেছে।
এদিকে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১২ শতাংশ। হ্যারি কেইন ও ডেকলান রাইসের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকলেও সামগ্রিক ফিটনেস ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে দলটি অন্য শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে এআই মডেল।
এআইয়েরও রয়েছে সীমাবদ্ধতা
তবে গবেষণায় এ কথাও স্বীকার করা হয়েছে যে, সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও সবকিছু নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে পারে না। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, নেতৃত্বের প্রভাব, নকআউট ম্যাচের চাপ কিংবা খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থার মতো মানবিক বিষয়গুলো পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা এআইয়ের পক্ষে সম্ভব নয়।












