বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন, গৌরব ও বিজয়ের প্রতীক। অসাধারণ নকশা ও ঐতিহাসিক মর্যাদার এই ট্রফিটির উচ্চতা ৩৭ সেন্টিমিটার, ব্যাস ১৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৬.১ কেজি। এটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে নির্মিত, যার মধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ১৭৫ গ্রাম সোনা।
ট্রফিটির নকশায় ফুটে উঠেছে এক গভীর বার্তা। এতে দুইজন মানুষের অবয়বকে মাথার ওপরে পৃথিবী ধারণ করতে দেখা যায়, যা ফুটবলের বিশ্বজনীন ঐক্য, আবেগ এবং মানবজাতিকে এক সুতোয় বাঁধার শক্তির প্রতীক। যেন পুরো পৃথিবীই ফুটবলের আনন্দে একত্রিত হয়েছে।
তবে ট্রফিটি সম্পূর্ণ কঠিন সোনা দিয়ে তৈরি নয়। এর ভেতরের অংশ ফাঁপা রাখা হয়েছে, যাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বিজয়ী খেলোয়াড়রা সহজেই এটিকে উঁচিয়ে ধরতে পারেন। অন্যথায়, সম্পূর্ণ কঠিন সোনা দিয়ে তৈরি হলে এর ওজন অনেক বেশি হয়ে যেত।
ট্রফির নিচের অংশে সংযোজিত রয়েছে মূল্যবান সবুজ খনিজ ম্যালাকাইটের দুটি স্তর, যা এর সৌন্দর্য ও রাজকীয় আভাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। সোনালি দীপ্তি আর সবুজ ম্যালাকাইটের মনোমুগ্ধকর সমন্বয় ট্রফিটিকে করেছে অনন্য ও চিরস্মরণীয়।
আবেগের দিক থেকে বিশ্বকাপ ট্রফির মূল্য নির্ধারণ করা অসম্ভব। তবে শুধু ব্যবহৃত সোনা ও অন্যান্য উপকরণের বাজারদর ধরলে এর মূল্য প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার। আড়াই কোটি টাকার সমান। যদিও সোনার বর্তমান দাম এবং ট্রফির সূক্ষ্ম কারুকাজ ধরলে বাস্তবে এটি তৈরি করতে আরও বেশি খরচ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কখনো এই ট্রফি নিলামে তোলা হয়, তবে এর দাম কয়েক শ গুণ বেড়ে যেতে পারে। এমনকি নিলামে এর মূল্য ২ কোটি মার্কিন ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা তৈরি করেছিলেন ইতালির শিল্পী সিলভিও গাজানিগা। ১৯৭০ সালে ফিফা নতুন ট্রফি নকশা বেছে নিতে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেখানেই গাজানিগার নকশা নির্বাচিত হয়। এর আগে বিশ্বকাপজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো জুলে রিমে ট্রফি। ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পর সেই ট্রফি স্থায়ীভাবে পেয়ে যায় ব্রাজিল। এরপর থেকেই বর্তমান সোনালি ট্রফিটি হাতে তোলা যে কোনো ফুটবলারের স্বপ্ন।












