উত্তর প্রদেশের কানপুরে দ্রুতগতিতে আসা একটি ল্যাম্বারগিনি পথচারীদের গায়ের ওপর তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। ভারতের তামাক ব্যবসায়ী কে কে মিশ্রের ছেলে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
ল্যাম্বারগিনি রেভুয়েল্টো গাড়িটিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
রোববার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়িটি মাতাল অবস্থায় চালাচ্ছিলেন শিবম মিশ্র। কানপুরের ভিআইপি রোডে দ্রুত গতিতে বিলাসবহুল গাড়ি, ল্যাম্বোরগিনি রেভুয়াল্টো চালাচ্ছিলেন তিনি।
‘রেভ-৩ মলের কাছে রোববার বিকেল ৩ টা ১৫ টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, ব্যবসায়ী কে কে মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্রের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন এবং বেশ কয়েকটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়, যার ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’ বলেন ডিসিপি (সেন্ট্রাল) অতুল কুমার শ্রীবাস্তব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, গাড়িটি প্রথমে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় এবং তারপর একটি পার্ক করা রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলের সাথে ধাক্কা খায়। যার ফলে আরোহী প্রায় ১০ ফুট দূরে উড়ে যায়। এছাড়া গাড়িটি মোটরসাইকেলের সামনের চাকাটি ধরে কিছুদূর টেনে নিয়ে যায় এবং তারপর একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা খায়।
আহতদের মধ্যে তৌফিক আহমেদ কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েন এবং তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এনডিটিভির সাথে কথা বলতে গিয়ে আহমেদ বলেন, তিনি রাস্তার ধারে তার পার্ক করা বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যখন বিলাসবহুল গাড়িটি তাকে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় আহত অন্যদের হাড় ভেঙে গেছে এবং আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে, হিন্দুস্তান টাইমেসর খবরে বলা হয়, পরিবার দাবি করেছে যে শিবম শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং গাড়ি চালানোর সময় খিঁচুনি অনুভব করেছেন, যার ফলে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
এদিকে, সংঘর্ষের পর গাড়ি থামানোর পরিবর্তে, মিশ্র ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
এরপর ক্ষুব্ধ পথচারীরা ল্যাম্বোরগিনি রেভুয়েলটোর জানালা ভেঙে মিশ্রকে টেনে বের করে।
অবশেষে পুলিশ এসে ভিড় থেকে মিশ্রকে উদ্ধার করে তাকে এবং আহতদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
বিলাসবহুল গাড়িটি, যার দাম ১০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিম দিল্লির রোহিণীতে নিবন্ধিত। গাড়িটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।












