কুমিল্লামঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফরিদপুরে ইজিবাইকচালক হত্যায় দুইজনের যাবজ্জীবন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ২১, ২০২৬ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফরিদপুরে কিশোর ইজিবাইকচালক মো. নাঈম শেখকে (১৫) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অপর একটি ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। 

তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুটি সাজা একসঙ্গেই কার্যকর হবে, ফলে তাদের যাবজ্জীবন সাজাই কার্যকর থাকবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ (পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক) অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। 

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।পরে পুলিশ পাহারায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রামের আছমত শেখ (২৩) ও সাগর মোল্লা (৩২)।নিহত নাঈম শেখ একই ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. সামসু শেখের ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে নাঈম তার ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। সারাদিন পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরদিন ২২ এপ্রিল ভোরে লোকমানখার ডাঙ্গী এলাকায় চোরাই ইজিবাইকসহ আছমত ও সাগরকে আটক করে পুলিশ। পরে উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকটি নাঈমের বলে শনাক্ত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নাঈমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং লাশ নিজেদের বাড়ির পাশের একটি স্থানে মাটি চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে নিহতের বড় ভাই মো. রাশেদ শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আছমত শেখ, সাগর মোল্লা এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বলেন, আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে। মামলার অপর আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।