ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক নারী শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে মোরশেদ আলম আদিব নামে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মোরশেদ আলম ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী। তিনি ফেনী পলিটেকনিক শাখা শিবিরের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, মোরশেদ আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নারী ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে একটি পোস্ট দেন। বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে এলে সোমবার রাতে তারা কলেজের হোস্টেল থেকে তাকে আটক করে কলেজ প্রশাসনকে খবর দেন।
পরে কলেজের শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেন। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অভিযোগের দায় স্বীকার করেন এবং এ ঘটনায় সবার কাছে ক্ষমা চান। পরে তাঁকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়।
ফেনী পলিটেকনিক ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল মোঘল বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা আমাকে জানায়। তাৎক্ষণিক ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি স্যারদের জানালে তাঁরা এসে পুলিশকে খবর দেন।’
শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আদিব আমার সহপাঠী। সে যেভাবে আমাদের সহপাঠী বোনদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তার বহিষ্কার দাবি করছি।’
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ রূপক কান্তি বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষার্থীও আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। সে তার ফেসবুকে আমাদের নারী শিক্ষার্থী ও কলেজ অধ্যক্ষকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট করেছে। বিষয়টি কলেজের শৃঙ্খলার পরিপন্থী। জিজ্ঞাসাবাদে সে দোষ স্বীকার করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে কোনো মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে। এ কারণে তাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।’
উপাধ্যক্ষ আরও জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে কলেজ প্রশাসন সভা করবে। ওই সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।












