কুমিল্লাবুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নষ্ট সিগন্যাল, অচল ফোনে ঝুঁকিতে রেলগেট : দুর্ঘটনা ঠেকাতে অটোমেশনে যাচ্ছে লেভেল ক্রসিং

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ২২, ২০২৬ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কোথাও সিগন্যাল বাতি নষ্ট, কোথাও অকার্যকর লাইন ক্লিয়ার ব্যবস্থা। অনেক লেভেল ক্রসিংয়ে নেই সচল টেলিফোন কিংবা কার্যকর ব্যারিকেড। ফলে দেশের তিন হাজারের বেশি রেলগেটের বেশিরভাগই এখন নির্ভর করছে শুধু গেটম্যানের ওপর। দুর্ঘটনা কমাতে লেভেল ক্রসিং অটোমেশনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ লক্ষ্যে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

দেশের অধিকাংশ লেভেল ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত নাজুক। কোথাও সিগন্যাল বাতি নষ্ট, কোথাও অকার্যকর লাইন ক্লিয়ার ব্যবস্থা। অনেক লেভেল ক্রসিংয়ে নেই সচল টেলিফোন কিংবা কার্যকর ব্যারিকেড। রাজধানীর এফডিসি লেভেল ক্রসিংয়েই দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর পড়ে আছে লাইন ক্লিয়ার ব্যবস্থা। ট্রেন চলাচলের সংকেত দেয়ার সিগন্যাল বাতি নষ্ট, যোগাযোগের টেলিফোনও অচল। ট্রেন একেবারে কাছে এলে কেবল কলিং বেল বেজে ওঠে। ফলে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যত ভরসা থাকে গেটম্যানের হাতের ইশারা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর।

গেটম্যানদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় ট্রেন কখন আসবে, সে তথ্য আগে থেকে জানা যায় না। অনেক স্থানে টেলিফোন, লক কিংবা চাবি—কোনোটিই সচল নেই। ফলে প্রতিটি মুহূর্তে ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদের।

এমন পরিস্থিতিতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে সারা দেশে লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৬০০ জন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যমতে, দেশের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথে ৩ হাজার ২০০টির বেশি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজারেরও বেশি অননুমোদিত।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, বি ও সি শ্রেণির লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যাই বেশি। এসব স্থানে মানুষ অননুমোদিতভাবে রেললাইন পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি বুয়েটের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকটি লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় গেট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে সেন্সরভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ও ব্যারিকেড প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বুয়েটের ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকার ১৫টি লেভেল ক্রসিংয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি স্থাপন করা হতে পারে।

বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. আলিম আল ইসলাম জানান, দেশের সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বল্প ব্যয়ের দেশীয় প্রযুক্তি (হোম-গ্রোন সলিউশন) তৈরি করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি গেটে স্বয়ংক্রিয় ব্যারিকেড বসিয়ে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, ট্রেন আসার আগেই সতর্কসংকেত দেয়া হবে, যাতে পথচারী ও যানবাহনের চালকরা পর্যাপ্ত সময় পান। আবার ট্রেন চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যারিকেড স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে যাবে। তবে পুরো ব্যবস্থায় মানুষের ভূমিকাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলওয়ের বিদ্যমান দুর্বল অবকাঠামো, পুরোনো সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে পাইলট প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে দেশের সব লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ও ব্যারিকেড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের।