কুমিল্লামঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে যা জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ১৪, ২০২৬ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি ওঠে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন মহল থেকে। তবে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়।  

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের বার্তায় বলা হয়, অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্তায় একটি বোর্ডের কারণে সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তবে কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরীক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে স্থানীয় প্রশাসন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সবশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ- এই সাতটি জেলা বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির শিকার। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাসহ অন্যান্য সব বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছিল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ছাত্রদলসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখাকেই একমাত্র ‘শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করে ছাত্রদল।