কুমিল্লারবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, শেষ আকুতির পর মা ও নবজাতকের মৃত্যু

প্রতিবেদক
Cumilla Press
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে এই মানুষগুলো আমাকে মেরে ফেলবে’—সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডে চরম যন্ত্রণা ও অস্থিরতা নিয়ে স্বজনদের কাছে কেঁদে কেঁদে এভাবেই আকুতি জানিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী প্রসূতি কল্পনা মিশ্র। স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার সেই আকুতি আর পূরণ হয়নি। প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় মারা যান সেই তরুণী, বাঁচানো যায়নি তার নবজাতককেও।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার হাতওয়া এলাকার এই মর্মান্তিক ঘটনা ও মৃত্যুর আগের প্রসূতির সেই করুণ ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পরিবারের অভিযোগ, উপযুক্ত চিকিৎসা ও দায়িত্বে থাকা কর্মীদের চরম অবহেলার কারণেই মা ও শিশুর প্রাণ গেছে।

স্বজনদের সূত্রমতে, প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় থাকা কল্পনাকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রসবকালীন শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রসূতি ওয়ার্ডের ভেতর চরম কষ্টে ছটফট করছেন কল্পনা। তিনি হাসপাতাল ছেড়ে স্বজনদের কাছে যেতে চাইলে কর্তব্যরত নার্সিং কর্মীরা তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন।

কল্পনার বাবা রামশরণ মিশ্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটি আমার একমাত্র সন্তান ছিল। ডাক্তারের কাছে বারবার অনুরোধ করেছি ওর শারীরিক অবস্থা একটু পরীক্ষা করতে, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়েই আমার মেয়েটা মরে গেল।” অ্যানেসথেশিয়ার অতিরিক্ত মাত্রার কারণে প্রসূতির জ্ঞান ফেরেনি বলেও সন্দেহ স্বজনদের।

ঘটনার পরপরই মা ও শিশুর মৃত্যুর খবরে স্বজনদের শোক ক্ষোভে রূপ নেয়। চিকিৎসায় অবহেলা ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে হাসপাতালের প্রধান ফটকে চার ঘণ্টা ধরে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে হাসপাতালের ডিন ড. সুনীল আগরওয়াল ও সুপারিনটেনডেন্ট ড. রাহুল মিশ্র স্বজনদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন।

ঘটনার প্রাথমিক পদক্ষেপে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নার্সিং কর্মকর্তা সাধনা ভার্মা ও সীমা মুজালদেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গঠিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের এক তদন্ত কমিটি। তবে চিকিৎসকদের সরাসরি অবহেলার অভিযোগ নাকচ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সেবা দেওয়া হচ্ছিল।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্য খাতের করুণ চিত্র সরকারি তথ্যেই স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ সালের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদিত ৫ হাজার ৪৪৩টি পদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ (৩ হাজার ৯৪৮টি) পদই ফাঁকা। এমনকি মেডিকেল অফিসারের অনুমোদিত পদেরও ৪১ শতাংশ খালি থাকায় প্রায়ই প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন প্রসূতিসহ সাধারণ রোগীরা।