দারীপুরের শিবচরে চাঞ্চল্যকর মাকে হত্যার পাঁচ দিন পর নদীতে ফেলে দেওয়া এক বছর বয়সী শিশু আবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মান্নান হাজীর মোড়সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে আড়িয়াল খাঁ নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা শিবচর থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি ফারুক শিশু আবিরকে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এরপর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধারে নদীতে অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। পাঁচ দিন পর আজ সোমবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল ইসলাম ২০ আগস্ট শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ও র্যাব-৮ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে। তল্লাশিকালে তার হেফাজত থেকে নিহত শাম্পা খাতুনের ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন ও রুপার গলার চেইন, বাসার চুলা থেকে পোড়ানো অবস্থায় তার ওড়না এবং এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।
মামলার বাদী ছামরুল ইসলাম বলেন, তিন বছর আগে মাদারীপুর জেলার বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার মেয়ে শাম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী ছেলে আবির রয়েছে। গত ১৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। একই সঙ্গে নাতি আবির নিখোঁজ রয়েছে বলেও জানতে পারেন।
এর আগে ১৯ আগস্ট সকালে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় জমির ঝোপের পাশে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোরের লালপুর থানার বেরিলাবাড়ি পোস্টের আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে।
এ ঘটনায় ২০ আগস্ট কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।












