গাজীপুরের টঙ্গীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রবাসী বন্ধু আকাশ সরদারকে (২১) ডেকে এনে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের পাশের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত আকাশ ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর গ্রামের করিম সরদারের ছেলে। আর গ্রেপ্তার মিঠু নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। তারা দুজনই আগে কম্বোডিয়ায় কর্মরত ছিলেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার অপু মিয়ার মাধ্যমে মিঠু ও আকাশ কম্বোডিয়ায় যান। প্রায় তিন মাস আগে তারা দেশে ফেরেন।
দেশে ফিরে আকাশ বেকার হয়ে পড়লে তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত ২৭ জুলাই সোনারগাঁওয়ে ডেকে নেন মিঠু। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে আকাশকে অপহরণ করে টঙ্গীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে সুমন নামে এক ব্যক্তি জানান, আকাশকে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও আকাশের সন্ধান না পেয়ে তার বাবা করিম সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলায় মিঠু, অপু মিয়া ও সুমন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে র্যাব-১-এর একটি দল রোববার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিঠুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অভিযান চালায় পুলিশ।
টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের সহায়তায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার একটি দল ২১ নম্বর টয়লেটের কাছে পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।












