কুমিল্লাসোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদক পরীক্ষায় ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলটরা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে দুর্ঘটনার পর পরিচালিত প্রাথমিক মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলট ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।এ সময় পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে রোস্টার থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী ওই ফ্লাইট অবতরণের পর কমান্ডে থাকা প্রধান পাইলটের দুটি পৃথক মূত্র পরীক্ষায় গাঁজা বা মারিজুয়ানা সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপরই টাটা গোষ্ঠী পরিচালিত এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সব পাইলটের জন্য নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে।

এখন পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার ৩০০ জনের বেশি পাইলটের মাদক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল পেতে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে।প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া দুই পাইলটের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ওই ফ্লাইটে কর্মরত এক কেবিন ক্রু অভিযোগ করেছেন, প্রধান পাইলট এর আগে ‘পট’ বা গাঁজা সেবন করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি।

মাদক পরীক্ষার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ারবাস এ-৩২০ নিও উড়োজাহাজের একটি গুরুতর ঘটনা। উড়োজাহাজটি হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। 

প্রযুক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি প্রধান জলচাপভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যাওয়ার পর প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এর উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ, ডানার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করেনি। ফলে পাইলটের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই উড়োজাহাজের ডানা ও পেছনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে পাইলটের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই এভাবে প্রায় চার সেকেন্ড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলট ও কর্মীদের মাদক পরীক্ষা নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করেই এসব পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় দুই পাইলট ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পরই তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।