সিলেটে নিজ বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার এবং তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে চারদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির।
তিনি বলেন, সকালে বাবুল মিয়াকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুপুরের দিকে বাবুল মিয়াকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
ওসি বলেন, মামলার তদন্তে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চারপাশের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখে পাওয়া তথ্যগুলো মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর আগে, গত বুধবার সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।
ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন গৃহকর্মী তাহমিনার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর একে একে আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে হত্যা করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত আব্দুস সাত্তার দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার কথিত প্রেমের সম্পর্ককে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সেলিনার দাবি, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার ২ দিন পর গত শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন সেলিনা সুলতানা। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার কারণে অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তার করা অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার নাম নেই।
সেলিনার অভিযোগে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার এই অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে চারদিনের রিমান্ডে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা, নিহতদের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং হত্যার আগে-পরে তার গতিবিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে পুলিশ। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।












