কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘুমন্ত ফরিদাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা, ৫০ টুকরো করেন লাইলী

প্রতিবেদক
Cumilla Press
আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাড়ির মালিক ফরিদা ইয়াসমিনকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর মরদেহ কেটে ৫০ টুকরো করার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন গ্রেপ্তার লাইলী আক্তার। তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী জানান, তিনি একাই ঘুমন্ত ফরিদা ইয়াসমিনকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ টয়লেটে নিয়ে দা দিয়ে ৫০ টুকরো করে পলিব্যাগে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রিমান্ড শেষে লাইলী আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, লাইলীর দেওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের প্রায় অর্ধশত খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এসব খণ্ড প্রায় ১৪টি পলিব্যাগে ভরে পুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল। অভিযানে নিহতের মাথা, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত দা, নিহতের স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে কাঠের গুঁড়ির ওপর রেখে দা দিয়ে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করা হয়েছিল, সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ওই বাসায় তিনি ও ফরিদা ইয়াসমিন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। ঘুমন্ত ফরিদাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর টয়লেটে নিয়ে দা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ খণ্ডবিখণ্ড করেন তিনি। পরে সেগুলো পলিব্যাগে ভরে পুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

সিসিটিভি ফুটেজেও হত্যাকাণ্ডের পর লাইলীর চলাফেরার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, নিহতের মাথার একটি অংশ ব্যাগে নিয়ে সকালে বাসার কাছাকাছি এলাকায় ফেলে যান তিনি। ওই সময় আশপাশে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ছিল।

পুলিশের ধারণা, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ফরিদা ইয়াসমিনের আলমারিতে ৭ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ এবং ১০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ছিল। হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলে লুটের অর্থ ও স্বর্ণালংকার ভাগাভাগি করতে হতো, আবার মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো সরিয়ে ফেলতেও সহযোগীদের প্রয়োজন হতো।

তবে লাইলী জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম বললেও পুলিশ তাদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের ধারণা, নিজের দায় কমানো বা সাজা লঘু করার উদ্দেশ্যেও লাইলী অন্যদের নাম বলে থাকতে পারেন। তাই তার দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আলোচিত মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, লাইলী আক্তার চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লাইলী আক্তার এর আগে ২০২১ সালে পরকীয়ার জেরে একটি শিশু হত্যার মামলায় কারাগারে ছিলেন। প্রায় সাড়ে ৪ বছর কারাভোগের পর তিনি জামিনে বের হন। ওই মামলার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও নতুন করে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গত ৭ আগস্ট রাতে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। গত ৮ আগস্ট বিকেলে মোহনা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়। পরে লাইলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং আদালতের মাধ্যমে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়।