কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে ১৪ মামলার আসামি নিহত

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ২৩, ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যশোরে ঘরে ঢুকে হামলা ও পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে একাধিক হত্যাসহ ১৪টি মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম জিতু (৩৫) নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জিতুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত জিতু ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সন্ত্রাসী জিতুর চাকুর আঘাতে একই পরিবারের দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন- পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়া এলাকার লাল মিয়ার স্ত্রী শুকরান বেগম (৫২) এবং তার ছেলে সুমন হোসেন ওরফে সুমন মিয়া (২৮)। তারা বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শুকরান বেগম জানান, বুধবার রাতে সন্ত্রাসী জিতু তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সে সুমনের কাছে মাদক ক্রয়ের জন্য চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় জিতু ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনকে মারধর করে এবং চাকুর আঘাতে তার মুখের বাঁ-পাশ জখম করে। ছেলেকে বাঁচাতে শুকরান বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে জিতু।

একপর্যায়ে সন্ত্রাসী জিতু ঘরের ভেতরে সুমনের স্ত্রীকে (শুকরান বেগমের পুত্রবধূ) জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় পুত্রবধূকে রক্ষা ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে শুকরান বেগম ঘরে থাকা দা দিয়ে জিতুকে কুপিয়ে জখম করেন।

পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’এ কল দিলে, কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় জিতুকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলের কালনা সেতু এলাকায় জিতুর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে স্বজনরা তার মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন মা ও ছেলের শরীরে বেশ কয়েকটি সেলাই ও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। ঠিক কী কারণে এ ঘটনার সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।