পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধে আটকা পড়েছে ছয়টি ট্রেন। ফলে ট্রেনের হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আটকে থাকা ট্রেনগুলো হলো- বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, ঢালারচর এক্সপ্রেস, ৫৭ কমিউটার, ১৬ মহানন্দা, সিক্স ডাউন ট্রেন। বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল করে। এছাড়া ঢালারচর এক্সপ্রেস রাজশাহী পাবনা রুটে চলাচল করে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের সামনে রেল ক্রসিংয়ে লাইনের ওপরে গাছের শেকড়, ব্রেঞ্চ, বাঁশের সঙ্গে লাল কাপড় টানানো হয়েছে। একইভাবে আরডিএ ওভার পাসের নিচে রাবি ও রুয়েটের মধ্যবর্তী স্থানে রেলক্রসিংয়ে লাল নিশান টানানো হয়েছে।
থেমে থাকা বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী সাবিনা খাতুন বলেন, সকাল ৭টায় ট্রেন ছাড়ার পর থেকে এখানে আটকে আছি। বাড়ি যেতে পারছি না। ট্রেনের মধ্যে বয়স্ক ও অসুস্থ অনেক যাত্রী রয়েছে। তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত একটা সমাধান হোক। অনেক যাত্রী গরমে কষ্ট পাচ্ছে।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করায় ৭টা ৫ মিনিট থেকে বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থেমে আছে। ৭টা ৪০ মিনিটের সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে, সকাল ১০টায় ঢালারচর এক্সপ্রেস সারদা স্টেশনে, ৮টা ৫৫ মিনিটে ৫৭ কমিউটার হরিয়ান স্টেশনে, ৮টা ১০ মিনিটে ১৬ মহানন্দা রাজশাহী স্টেশনে ও ৯টা ৩৫ মিনিটে সিক্স ডাউন শীতলাই স্টেশনে আটকা পড়েছে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত টিটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে চার দফা দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কার্যালয়। লিখিত বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) এক শিক্ষার্থীকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিটি মারধর করেন। এ ঘটনাকে তারা ‘হত্যাচেষ্টার শামিল’ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, টিটি সরকারি রসিদ ছাড়া অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করলে ওই শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চলন্ত ট্রেনের দরজার দিকে নিয়ে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। সৌভাগ্যবশত অন্য যাত্রীদের সহযোগিতায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অভিযুক্ত টিটিকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত ও আইনের আওতায় আনা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রেনে হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
ভুক্তভোগী ফোরকান উদ্দীন বলেন, গতকাল রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফিরছিলাম। খেয়াল করি যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টিটিরা টাকা আদায় করছে। টাকা নিচ্ছে, কিন্তু রসিদ দিচ্ছে না। আমি তখন প্রতিবাদ করে টিটিদের বলি রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। কিন্তু টিকেট ইস্যু না করে টাকা নিচ্ছেন কেন? সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে পেছন থেকে আমার গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যায় ৬-৭ জন টিটি। এরপর আমার ঘাড়ে ও পিঠে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। আমি পড়ে গেলে খারাপ কিছু হতে পারত। আমার চশমাও ভেঙে গেছে। আমি অভিযুক্তদের শাস্তি চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, গতকাল রাতে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট চেকারেরা (টিটি) প্রচন্ডভাবে মারধর করেছে। এরই প্রতিবাদে আমাদের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। যাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোও আমাদের বিবেচ্য বিষয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি। সবাই মিলে বসে সমাধানের জন্য।












