রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে গলা কেটে করে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় দেন। আসামি মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১৪ জুলাই এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন এবং তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন রায় ঘোষণার আগে মনিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে আসামি মনির জামিনে ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকিলা খাতুন সোমার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে আছে। এক পর্যায়ে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমাকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু আরও টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন মনির। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মারধর করে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। ওই সময় সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। আর কখনো এমন করবেন না- এমন অঙ্গীকার দিয়ে সোমাকে কয়েকদিন পর নিয়ে আসেন মনির। তারপরও নির্যাতন কমেনি।
৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে গলায় আঘাত করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তখন গ্রেপ্তার করা হয় মনিরকে। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক বায়েজীদ বোস্তামী। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠন করে মনিরের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।












