কুমিল্লাশনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মার্কিন হামলার জবাবে ছয় আরব দেশে হামলা চালাল ইরান

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ১৭, ২০২৬ ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গত রাতে চালানো মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এসব অভিযানের তথ্য প্রকাশ করেছে।

গত কয়েকদিন ধরে ইরানে অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতভর বিমান হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার (পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টা) দিকে শুরু হয় এই বিমান হামলা। এই হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেয়া।’

সেন্টকমের ভাষ্য, ‘ফাইটার জেট, ড্রোন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মার্কিন বাহিনী নির্ভূল অস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত হেনেছে, যা ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার মতো কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’

হামলার তথ্য নিশ্চিত করে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, ইরানশাহর এবং বন্দর-ই খামির এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ ইরানজুড়ে অন্তত ছয়টি সেতু, একটি রেলস্টেশন ও অন্যান্য স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য মতে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর-ই খামির সড়ক সেতুতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সেতুটি বন্দর আব্বাসকে দেশের অভ্যন্তরের অন্যান্য শহরের সাথে সংযুক্ত করেছিল।

এছাড়া দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং তার এক বছরের শিশু স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের তাপ্পে আল্লাহু আকবর এলাকায় মার্কিন হামলায় এক মা নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।

ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় বন্দর আব্বাস ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণ ইরানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে।

আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ১৩তম দফার প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।

বাহরাইন: আজ সকালে বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়।

কাতার: আজ ভোরে কাতারের ওপর অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্রসহ ইরানের বিভিন্ন প্রক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক সতর্কবার্তা জারি করে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সব প্রক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহার আকাশে হামলা প্রতিহত করার সময় ছিটকে পড়া ধাতব টুকরোর আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে। শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ওমান: আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ওমানের ঘানিম অঞ্চলে একটি মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালির শিলাখণ্ডে স্থাপিত একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ রাডার ধ্বংস করেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৩৫ কিলোমিটার) পূর্বে চলাচলরত একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুয়েত: ইরানের বার্তা সংস্থা মেহরের খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসি দাবি করেছে যে তারা কুয়েতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুদাম এবং দুটি হিমার্স সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করেছে।

জর্ডান: জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করার পর দেশের দিকে আসা ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানায়, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পসের সদস্যরা ছিটকে পড়া ধাতব টুকরো অপসারণের কাজ করেছে।

সিরিয়া: তাসনিম বার্তা সংস্থার খবরে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, ইরানশাহরে ইরানি সেনাদের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।