কুমিল্লাশুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচে কে জিতবে, জানালো সুপার কম্পিউটার

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ১০, ২০২৬ ৭:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চ এখন লস অ্যাঞ্জেলেসে। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি–স্পেন ও বেলজিয়াম। টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ ততই ধারালো হয়ে উঠছে। তবে রেড ডেভিলদের সেমিফাইনালে ওঠার পথে এবার সবচেয়ে বড় বাধা এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ‘লা রোখা’ বা স্পেন। আক্রমণ বনাম স্প্যানিশ দুর্ভেদ্য রক্ষণের এই ধ্রুপদি লড়াইয়ে কে হাসবে শেষ হাসি? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিখ্যাত ডেটা অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। আর তাদের হিসাবে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থাকছে স্পেনই।

গ্রুপ ‘জি’র চ্যাম্পিয়ন হলেও শুরুতে বেলজিয়ামের পারফরম্যান্সে কিছুটা ঘাটতি ছিল। তবে নকআউট পর্বে এসেই চেনা ছন্দে ফিরেছে তারা। শেষ ৩২-এর ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। যার প্রতিফলন দেখা গেছে শেষ ষোলোর ম্যাচে; স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ডোমেনিকো টেডেসকোর শিষ্যরা।


যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে নজর কেড়েছেন চার্লস ডি কেতেলারে। পরে বদলি হিসেবে নেমে জালের দেখা পান হান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকু। বিশেষ করে লুকাকুর পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। চলতি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে এরইমধ্যে ৩টি গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপের এক আসরে বদলি হিসেবে এর চেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড আছে কেবল ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিল্লার (৪টি, ১৯৯০)। তবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও স্পেনের বিপক্ষে কৌশলী ম্যাচে লুকাকুকে হয়তো আবারও ‘সুপার সাব’ হিসেবে বেঞ্চেই দেখতে হতে পারে।
 


পরিসংখ্যান বলছে, বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ এখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ছন্দে রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে তাদের শট থেকে গোল করার হার ১২.১ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (শীর্ষে ২০১৮ বিশ্বকাপ, ১৫.২ শতাংশ)। শুধু তাই নয়, প্রতি ম্যাচে গড়ে ২১.৪টি শট নিয়ে পাঁচ ম্যাচে মোট ১০৭টি শট নিয়েছে তারা, যা দলটির আক্রমণাত্মক মানসিকতারই প্রমাণ।


বেলজিয়ামের এই বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে এবার পরীক্ষা স্পেনের লৌহকঠিন রক্ষণের। শেষ ষোলোর ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ ম্যাচ ক্লিনশিট (গোল হজম না করা) রাখার রেকর্ড গড়েছে স্পেন। বিশ্বকাপে টানা ১০ ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে কোনো গোল হজম করেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। চলতি আসরে প্রতি ম্যাচে স্পেনের প্রত্যাশিত গোল হজমের গড় মাত্র ০.৩০, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সর্বনিম্ন।


রক্ষণের পাশাপাশি স্পেনের আক্রমণে বড় ভরসার নাম ১৭ বছর বয়সি বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। চলতি টুর্নামেন্টেই এরইমধ্যে ১৭টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেছেন এই উইঙ্গার। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি সফল ড্রিবল করা কিশোর ফুটবলার আছেন মাত্র দুজন–জামাল মুসিয়ালা (১৯টি, ২০২২) এবং কিলিয়ান এমবাপে (২২টি, ২০১৮)।
 


মাঝমাঠের সুতা থাকবে রদ্রির হাতে। চলতি বিশ্বকাপে তার ৮০টি ‘লাইন-ব্রেকিং পাস’ স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী জাভি, পিকে ও জাবি আলোনসোদের সোনালি দিনগুলোকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীন বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে খেলা ৬ ম্যাচের সব কটিতেই জিতেছে স্পেন।


অতীত ইতিহাস ও সুপার কম্পিউটারের রায় অতীতের পাতা ওল্টালে অবশ্য বেলজিয়াম কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই স্পেনকেই টাইব্রেকারে বিদায় করেছিল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে দুই দলের তিনবারের দেখায় জয়-পরাজয় সমান (১টি করে জয় ও ১টি ড্র)। তবে সাম্প্রতিক ইতিহাস স্পেনের পক্ষে কথা বলছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন, যার মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে তারা। ২০১৬ সালের পর অবশ্য দুই দল আর মুখোমুখি হয়নি।


সব সমীকরণ ও ডাটা বিশ্লেষণ করে অপটা সুপারকম্পিউটার ম্যাচের রায় দিয়েছে স্পেনের পক্ষেই। সুপার কম্পিউটারের তথ্য অনুযায়ী: নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৫৯.৩%, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে বেলজিয়ামের জয়ের সম্ভাবনা ১৮.৩% আর ম্যাচটি ড্র (অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার) হওয়ার সম্ভাবনা ২২.৪%।


অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের ভাগ্যসহ সার্বিকভাবে স্পেনের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৬৯.৫ শতাংশ বলে জানাচ্ছে সুপারকম্পিউটার। তবে মাঠের ফুটবলে পরিসংখ্যান অনেক সময়ই ভুল প্রমাণিত হয়; লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে বেলজিয়ামের আক্রমণ বনাম স্পেনের রক্ষণের আসল লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।