কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বন্যায় ভেসে গেল খামার, পালাল ৯০০ সাপ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ৯, ২০২৬ ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরের একটি সাপের খামার ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ পালিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে বিষধর গোখরাও রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

চীনা সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে গুয়াংজি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এর ফলে নাননিংয়ের অধীন হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও টাউনশিপের দেংওয়েই গ্রামের একটি সাপের খামার পানির তোড়ে ভেসে যায় এবং বিপুলসংখ্যক সাপ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রাম কমিটির প্রধান উ ঝি জানান, গত ৬ জুলাই সকালে ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খামার থেকে ৮০০–৯০০টি সাপ বেরিয়ে যায়। এর মধ্যে বেশিরভাগই বিষহীন জলসাপ হলেও কিছু বিষধর গোখরাও রয়েছে। তিনি জানান, অন্তত একজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জলাধারের বাঁধ ভেঙে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ায় একাধিক ছোট সাপের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আরও সাপ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। বন্যার পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন ব্যক্তি সাপের কামড়ে অসুস্থ হলেও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় সময়মতো চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার এক সাপচাষি জানান, স্থানীয় খামারগুলোতে মূলত গোখরা, কিং র‍্যাট স্নেক ও জলসাপ পালন করা হয়। এর মধ্যে শুধু গোখরাই বিষধর। তিনি ধারণা করেন, নিচু এলাকায় থাকা ছোট খামারগুলো থেকেই অধিকাংশ সাপ পালিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক সাপ মারা যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাপ উদ্ধারে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল কাজ করছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ শনাক্ত ও ধরার চেষ্টা করছে, যাতে নতুন করে কেউ সাপের কামড়ে আক্রান্ত না হন।

গ্রাম কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং নিজেরা সাপ ধরার চেষ্টা না করার অনুরোধ জানিয়েছে। কোনো বাড়িতে সাপ দেখা গেলে দ্রুত গ্রাম কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে। এরপর প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীরা নিরাপদে সাপগুলো ধরে সরিয়ে নেবেন।