কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে ভাসছে চট্টগ্রাম

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ৯, ২০২৬ ৩:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

টানা বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের জনজীবন। জেলার আটটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো পরিবার। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি ও মৎস্য খামার। দুর্গতদের জন্য জেলাজুড়ে খোলা হয়েছে ৫৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির নয়টি ইউনিয়ন আংশিক জলাবদ্ধতার কবলে, এছাড়া হাটহাজারী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, মীরসরাই ও বোয়ালখালীর ব্যাপক এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গ্রামীণ সড়ক, বসতবাড়ি ও মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ডলু নদীর সেতুর কাছে সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাড়ছে ধসের আশঙ্কা।

বাঁশখালীতে অন্তত ২০টি ছড়া-খাল দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, সরল, খানখানাবাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। খানখানাবাদে বেড়িবাঁধের অংশ ধসে পড়েছে, বেড়েছে পাহাড়ধসের শঙ্কাও। নাপোড়া শেখেরখীলে সড়ক ভেঙে কয়েকশ বসতঘর প্লাবিত হয়েছে, আর তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির।

চন্দনাইশে শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেত ও মৎস্য প্রকল্প তলিয়ে গেছে। মীরসরাইয়ে পাঁচ শতাধিক বসতঘর পানিবন্দি, রোপা আউশসহ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফটিকছড়িতে হালদা নদী, ধুরুং খাল, সর্তা খালের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, বিবিরহাট বাজার সংলগ্ন ধুরুং খালের বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে।
রাউজানে পাহাড়ি ঢলের চাপে ডাবুয়া খালের বেড়িবাঁধ ভেঙে ডাবুয়া, চিকদাইর, কদলপুর, পাহাড়তলীসহ সাতটির বেশি এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কাপ্তাই সড়কের একাংশ তলিয়ে গেছে এবং বহু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন উপজেলার ফসলি জমি ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, গুড় ও স্যালাইনসহ শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।