কুমিল্লারবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাঁচানো গেল না পল্লী বিদ্যুতের মাসুদকে, ২০ দিন লাইফ সাপোর্টের পর মৃত্যু

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুন ২৮, ২০২৬ ৯:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শত চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মী মাসুদ রানাকে (৩৮)। বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ ২০ দিন বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। দুটি অবুঝ শিশু সন্তানসহ পরিবারের সবাই ছিলেন মাসুদের সুস্থ হয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে শনিবার সকালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ, হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাসুদ রানা মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন মাঠকর্মী ছিলেন। গত ৮ জুন সহকর্মীদের সঙ্গে মানিকগঞ্জের বেথুয়া এলাকায় লাইন মেরামতের কাজে যান তিনি। সেখানে রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে বিদ্যুতের খুঁটির উপরে থাকা সহকর্মীর কাজ তদারকি করছিলেন। এমন সময় ‘শুকতারা পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। 

সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পঙ্গু হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় তাকে বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মাসুদের দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেখানকার মাত্র দুই দিনের বিল পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হয়। এরপর তাকে স্থানান্তরিত করা হয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের আইসিইউতে এবং সর্বশেষ সেখান থেকে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে।

নিহতের মামাতো ভাই মাসুম জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মাসুদ। ৮ বছরের ছেলে মাহির ও আড়াই বছরের মেয়ে মাইশাকে নিয়ে গোটা পরিবার তার ওপরেই নির্ভরশীল ছিল। মাসুদকে বাঁচাতে দীর্ঘ ২০ দিন আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। গ্রামের জমি বিক্রি করে এবং স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ চালানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো গেল না।

নিহত মাসুদের বাবার নাম আবু তালেব মোল্লা। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল গ্রামে। এই দুর্ঘটনার ঘটনায় মানিকগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।