কুমিল্লাবুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সন্তানকে বাঁচাতে বাবার আকুতি ‘আমার লিভার দেব, শুধু ছেলেটাকে বাঁচিয়ে দিন’

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুন ২৪, ২০২৬ ৪:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিটি বাবা-মায়ের স্বপ্ন ঘিরে থাকে তাদের সন্তানকে। সন্তানের হাসি, প্রথম কথা বলা, প্রথম হাঁটা- এসব মুহূর্তই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।কিন্তু সেই সন্তান যখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে, তখন একজন বাবা-মায়ের অসহায়ত্বের চেয়ে বড় বেদনা আর কিছু হতে পারে না।

এমনই এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটছে মো. ইমরান হোসেন জয়ের পরিবারের।

তাদের একমাত্র সন্তান, সাত মাস বয়সী ইব্রাহিম তাহমিদ বিন ইমরান, বর্তমানে জটিল লিভার রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে বাঁচাতে দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন।সময় যত গড়াবে, ততই বাড়বে ঝুঁকি।

ভারতের চেন্নাইয়ের ড. রেলা ইনস্টিটিউট অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টারের পেডিয়াট্রিক হেপাটোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন ইব্রাহিমের মেডিকেল নথি অনুযায়ী, সে বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া (Biliary Atresia) নামের বিরল ও জটিল লিভার রোগে ভুগছে।জন্মের পর তার শরীরে পিত্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় লিভার ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে শিশুটির ১১০ দিন বয়সে কাসাই (Kasai) অপারেশন করা হয়। কিন্তু এরপরও সে বারবার রিকারেন্ট কোলানজাইটিস (Recurrent Cholangitis) বা পিত্তনালির সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংক্রমণ ও জ্বরের কারণে ইতোমধ্যে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ইব্রাহিমকে। সর্বশেষ চিকিৎসার সময় জ্বর, কাশি ও সর্দি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটেও (পিআইসিইউ) রাখতে হয়েছিল। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বারবার সংক্রমণের কারণে শিশুটির লিভারের অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠছে। সিটি স্ক্যান ও অন্যান্য পরীক্ষার ভিত্তিতে চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে শিশুটিকে বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো লিভার প্রতিস্থাপন।

ছেলেকে বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি অংশ দিতে প্রস্তুত বাবা ইমরান। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিজের লিভারের অংশ দান করতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসার বিপুল ব্যয় এখন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইমরান বাংলানিউজকে বলেন, “আমি আমার ছেলের জন্য নিজের লিভার দিতে প্রস্তুত। আমার শরীরের একটা অংশ দিয়ে যদি ও আবার সুস্থ হয়ে ‘বাবা’ বলে ডাকতে পারে, তাহলে এর চেয়ে বড় সুখ আমার জীবনে নেই। কিন্তু অপারেশনের খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য আমার নেই।”

তিনি বলেন, “ডাক্তাররা বলেছেন, সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। যত দ্রুত সম্ভব ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। আমি একজন সাধারণ মানুষ। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এখন মানুষের সহযোগিতাই আমার শেষ ভরসা।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোট্ট ইব্রাহিম দিনের পর দিন শারীরিক কষ্ট সহ্য করছে। বারবার হাসপাতালে যাওয়া, রক্ত পরীক্ষা, বিভিন্ন চিকিৎসা- এসবই এখন তার জীবনের অংশ হয়ে গেছে। অথচ এই বয়সে তার থাকার কথা ছিল মায়ের কোলে নিশ্চিন্ত ঘুমে, খেলনা নিয়ে হাসি-আনন্দে।

একজন অসহায় বাবার চোখে এখন একটাই ভয়, অর্থের অভাবে সন্তানের চিকিৎসা থেমে যাবে না তো?

ইমরান বলেন, “রাতে যখন ও ঘুমিয়ে থাকে, আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। বারবার মনে হয়, অর্থের অভাবে যদি আমার ছেলেকে হারিয়ে ফেলি, তাহলে কীভাবে বাঁচব? আমি কোনো বিত্তবান মানুষ নই। আমি শুধু একজন বাবা, যে নিজের সন্তানের জীবনের জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চাইছে।”

পরিবারটি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, অনেক মানুষের সামান্য সহায়তাই হয়তো ইব্রাহিমের নতুন জীবনের পথ খুলে দিতে পারে।

শিশুটির সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার বাবা-মা। একইসঙ্গে তারা অনুরোধ জানিয়েছেন, যারা আর্থিক সহায়তা করতে পারবেন না, তারা অন্তত বিষয়টি অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

সহায়তার জন্য যোগাযোগ
যোগাযোগ (হোয়াটসঅ্যাপ): ০১৭৭৯৭৫৬৮১২ (বিকাশ/নগদ/রকেট)
ব্যাংক: ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি
হিসাবের নাম: MD. IMRAN HOSEN JOY
হিসাব নম্বর: 1078469040001
শাখা: মিরপুর-১