ভারতের রাজধানী দিল্লির মেহরাউলি এলাকায় ১০ বছরের শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবলু (২৫) নামের এক অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি চালককে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। মেহরাউলির বনাঞ্চল থেকে নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
পুলিশ জানায়, সোমবার (২২ জুন) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটির পরিবার পুলিশের জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে তাদের ১০ বছরের মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার কথা জানায়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মেহরাউলি থানা পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি অভিযান নামায়।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ওই এলাকার শত শত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ স্ক্যান করে। একপর্যায়ে এক সন্দেহভাজন ট্যাক্সি চালকের তথ্য পায় পুলিশ। এরপর অভিযোগ দায়েরের মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত চালক বাবলুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত বাবলু নিজের জঘন্য অপরাধ স্বীকার করেছে। সে জানায়, মেহরাউলি এলাকার সিডিআর চকের কাছের একটি ফুটপাত থেকে সে শিশুটিকে অপহরণ করে। এরপর ট্যাক্সিতে করে তাকে গুরুগ্রামের দিকে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটিকে হত্যা করে মেহরাউলির একটি জঙ্গলে লাশ ফেলে দেয়। ঘাতকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরে পুলিশ ওই জঙ্গল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিহত শিশুটির পরিবার মূলত বিহারের বাসিন্দা। তারা মেহরাউলিতে একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তবে সম্প্রতি বাসাটি হারানোর পর তারা ফুটপাতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। চার সন্তানের মধ্যে এই ১০ বছরের শিশুটি রাস্তায় বেলুন বিক্রি করত। তার মা-বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। ফুটপাত থেকে সন্তানকে তুলে নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।











