কুমিল্লামঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধারের টাকা পরিশোধ না করায় জামায়াত কর্মীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুন ১৬, ২০২৬ ৯:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজবাড়ীর কালুখালীতে আসাদুল ইসলাম (২২) নামের জামায়াতে এক কর্মীকে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের করেছে পুলিশ। ধারের টাকা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামসুল হক।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্য্যদিয়া গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মো. মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মন্ডলের ছেলে মো. আনোয়ার মন্ডল (৪৪) ও সূর্য্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে মো. আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।

নিহত আসাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি মীর মশাররফ হোসেন সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ও মদাপুর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী থানার মদাপুর
ইউনিয়নের সূর্য্যদিয়া মাদরাসার পিছনে পাট ক্ষেতে নিখোঁজ মো. আশাদুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা শাহজাহান মন্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা নিবিড়ভাবে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রাখে।

তদন্তকালে জানা যায় যে, আসামি মিজান শেখের কাছ থেকে ভিকটিম আশাদুল ইসলাম ৪ মাস আগে ৬৮ হাজার টাকা ধার নেন। সময়মত ধারের টাকা ভিকটিম পরিশোধ করতে না পারায় পূর্বে থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলমান ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা মিলে আশাদুলকে হত্যা করে মরদেহে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পরবর্তী সহকারী পুলিশ সুপার, পাংশা সার্কেল দেব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যা মামলায় সম্পৃক্ত ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এসময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল, ১টি রক্তমাখা হেলমেট, ১টি এসএস পাইপ (রড) ও ১টি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামসুল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আসামি মিজান শেখ বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।