কুমিল্লারবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় গ্রেপ্তার ৩

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ২৩, ২০২৬ ৯:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাগুরার শ্রীপুরে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর কলাবাগানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. আতাউর রহমান ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে শুক্রবার (২২ মে) ওই ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- অনিক, রানা বিশ্বাস এবং নয়ন শেখ। তারা সবাই শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা।

​ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শ্রীপুরের বিলনাথুর গ্রামের মো. বদর আলী শেখের ছেলে সৌরভের (২১) সাথে ওই স্কুলছাত্রীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে সৌরভ তাকে প্রেমের প্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। গত ৪ মে (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর ট্যাম্পু স্ট্যান্ড বালু মাঠ এলাকা থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের খড়িচাইল গ্রামস্থ মাছ ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়ার মাছের ঘেরের পূর্ব পাশের একটি কলাবাগানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সৌরভ প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে অন্য আসামিরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

​মামলায় অভিযুক্ত ৫ আসামি হলেন— মো. সৌরভ (২১), অনিক (১৯), রানা বিশ্বাস (২০), নয়ন শেখ (১৯) এবং মো. হুসাইন। তারা সবাই শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা।

​ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ধর্ষণের সময় আসামিরা মোবাইল ফোনে সেই চিত্র ধারণ করে রাখে। ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউকে জানালে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। লোকলজ্জা ও আসামিদের ভয়ে ওই স্কুলছাত্রী শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখে। পরবর্তীতে গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকাল ১১টার দিকে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর এক আত্মীয় স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে লোকজনের মোবাইলে ফেসবুক, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ধর্ষণের ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে দেখেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরে মায়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয় ওই ছাত্রী।

ঘটনার বিস্তারিত জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করে গত ২২ মে (শুক্রবার) ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

​শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. আতাউর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, শুক্রবার মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামির মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।