কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাণ বাঁচাতে খালি হাতে ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রে

প্রতিবেদক
Cumilla Press
আগস্ট ২৩, ২০২৪ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১০ জেলার মানুষ। আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। অনেকেই ঘর থেকে কিছু বের করতে না পেরে খালি হাতে ছুটে এসেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। দুর্গত এলাকায় এখন দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।

গত সোমবার থেকে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বাড়তে থাকে। মাত্র একদিনেই নদীর পানি উপচে তলিয়ে যেতে শুরু করে নীচু এলাকা।

আকস্মিক বন্যায় বেশি বিপাকে পড়েছেন গোমতী নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। সহায়-সম্বল ঘরে রেখেই জীবন বাঁচাতে ছুটে যান আশ্রয়কেন্দ্রে।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘এই বছরে হঠাৎ এই অবস্থা হয়েছে। যে ক্ষতি হয়েছে তা বলার বাহিরে। ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। একটা গরু মারা গেছে।’

নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় পানিবন্দি ২০ লাখ মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৪০০। তবে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই দেখা দিয়েছে খাবার সংকট।

আশ্রয়কেন্দ্রে আসা এক বয়োজ্যেষ্ঠ বলেন, ‘সব এলোমেলো করে ফেলে এসেছি। এগুলো থাকে নাকি থাকবে না এটা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। শুধু আমার না, সবারই একই সমস্যা।’

পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় ১ হাজার ২০০ পরিবার এখন পানিবন্দি। দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে আসার পাশাপাশি পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও স্যালাইন মজুদ রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি বন্যা দুর্গত যারা আছেন তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার এবং ইতোমধ্যেই আমরা ১৫ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছি। এগুলো বিতরণ শুরু হয়ে গেছে।’

বন্যার পানিতে ভাসছে খাগড়াছড়ির দেড় শতাধিক গ্রাম। আটকা পরা বাসিন্দাদের উদ্ধারের পাশাপাশি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও রেড ক্রিসেট।

দীঘিনালার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এদেরকে বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও এখানে কাজ করছে।’

এদিকে, সাজেকে আটকে পড়া আড়াইশ পর্যটকদের থাকা ও খাবারে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ছাড় দিয়েছে রিসোর্ট মালিক সমিতি।