কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লক্ষ্মীপুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুন ২৫, ২০২৬ ৬:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে মা ও দুই মেয়ের পর ঢাকায় নেয়ার পথে মারা গেছেন মেজো মেয়েও। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই নৃশংস ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের ধানহাটা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন: মা শাহীনুর বেগম (৩৫), বড় মেয়ে সায়মা (২১), মেজো মেয়ে ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা (১৩)। গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন অভিযুক্তের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে অন্তর পেশায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন এবং নিহতদের পূর্বপরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহীনুর বেগমের আদি বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানাধীন লটিয়া গ্রামে। ২০১৯ সালের দিকে তার স্বামী হাঁড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও ছেলে সিফাতকে (১৬) নিয়ে ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন। সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদারও বছরখানেক আগে একই ভবনে ভাড়া ছিলেন। ঘটনার সময় শাহীনুরের ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান। তারা জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর সবাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

এ সময় অন্তর মজুমদার নামে ওই যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার শরীরে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা শাহীনুর বেগম এবং তার বড় ও ছোট মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ইকরাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মামুনুর রশিদ পলাশ জানান, ঢাকায় নেয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় ইকরার মৃত্যু হয়।

এই নৃশংস ঘটনায় ওই পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৬ বছরের কিশোর সিফাত। সে পাশের একটি দোকানের কর্মচারী। সিফাত জানায়, ঘটনার আগেই সকালে সে কর্মস্থলের উদ্দেশে বেরিয়ে গিয়েছিল।

ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার, ডিবি ও সিআইডি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।’