ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও মার্কিন সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো ভেনেজুয়েলা। এর পরপরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
ইউএসজিএস প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে জানিয়েছে, পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় দুর্যোগের মাত্রা ব্যাপক ও বিস্তৃত হওয়ার উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির গাণিতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মূল কম্পনের পর এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি আফটারশক (অনুকম্পন) অনুভূত হয়েছে। এর পাশাপাশি কারাকাস ও আশেপাশের পার্বত্য অঞ্চলে মারাত্মক ভূমিধস ও মাটির তারল্যীকরণের মতো ঘটনা ঘটায় ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষীণ হয়ে আসছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসের আলতামিরা এলাকায় একটি ২২ লা ভবন সম্পূর্ণ ধসে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সেখানে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মানুষ হাহাকার করছেন। শত শত স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মী ধ্বংসস্তূপের ওপর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ৩২ জনের মৃত্যু এবং ৭০০ জনেরও বেশি মানুষের আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে রাজধানীর নিকটবর্তী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ‘লা গুয়াইরা’ অঞ্চলের চূড়ান্ত হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান এখনও আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
বন্ধ বিমানবন্দর, পাশে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব
ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘মাইকুয়েতিয়ার’ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, সম্ভাব্য আরও দুর্ঘটনা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বহু ভবনের গ্যাস সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য মার্কিন সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, বলিভিয়া ও উরুগুয়ের মতো লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলোও রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে কারাকাসের দিকে জরুরি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।












