চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে শাহরিয়ার হোসেন শিহাব। কিন্তু ফলাফল দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। ফল ঘোষণার দুদিন আগেই পৃথিবী থেকে চলে গেছে এই শিক্ষার্থী।
শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মানরা গ্রামের গাজীর বাড়ির মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঢাকা বিমানবন্দর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে শিহাব ছিল সবার বড়। পরিবার নিয়ে গাজীপুরে বসবাস করতেন। সেই সুবাদে ছেলে শিহাবকে বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল সে।
গত শনিবার (৮ ডিসেম্বর) শিহাব তার চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে গাজীপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শনিবার ছিল তার চাচার বৌভাতের অনুষ্ঠান। ওই দিন দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে ওঠে সে। ভেজা কাপড় রোদে শুকানোর জন্য ছাদের কার্নিশে দিতে গেলে ডেকোরেশনের মরিচাবাতির তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় শিহাব। এতে সে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। স্বজনরা উদ্ধার করে দ্রুত তাকে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিহাবকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিহাবের এমন অভাবনীয় সাফল্যের খবর জানতে পারে পরিবার। তবে ফলাফলের খবর পেলেও সন্তানকে পাশে না পাওয়ার বেদনায় এই অর্জনের বার্তা স্বজনদের জন্য আনন্দের বদলে পরিণত হয়েছে গভীর শোকে।
শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, মেধাবী ছাত্র শিহাবের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলেটি ভালো পরীক্ষা দিয়েছিল, কিন্তু নিজের এই মেধার স্বাক্ষর আর দেখে যেতে পারল না। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই আমি তাৎক্ষণিকভাবে তার বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেই। এই অসমাপ্ত স্বপ্নের বেদনা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী আক্তার বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। মেধাবী এই কিশোরের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। তার পরিবারের জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি।












