কুমিল্লাবুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমিল্লায় সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিব’ন্ধী বোনের সম্পত্তি আ’ত্ম’সাৎ এর অভিযোগ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুন ২৪, ২০২৬ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লা নগরীর ৩নং ওয়ার্ড কালিয়াজুরীতে সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৪ জুন) কালিয়াজুরী শীলবাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ইতি রানী শীল (২৭)।

ইতি রানী শীল নগরীর ৩নং ওয়ার্ড কালিয়াজুরী শীলবাড়ির বাসিন্দা পিতা মৃত গোপাল চন্দ্র শীল এর মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে ইতি রানী শীল বলেন, আমার শারীরিক অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন সৎ ভাই কেশব চন্দ্র শীল এবং তার স্ত্রী প্রতিমা রানী শীল।

তাদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১৮ বছর আগে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হই এবং ঢাকায় আমার বড় বোনের আশ্রয়ে চলে যাই। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বোনের সংসারের টানাপোড়েনের কারণে আমি আবারও কুমিল্লার পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসি। কিন্তু বাড়িতে ফেরার মাত্র ৮ মাসের মাথায় আমার সৎ ভাই ও ভাবি আবারও আমার ওপর পুরোনো কায়দায় নির্যাতন শুরু করেন।”

তিনি আরো বলেন, “কোনো উপায় না পেয়ে, আমি গত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সৎ ভাই কেশব চন্দ্র শীল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থায় (লিগ্যাল এইড) একটি অভিযোগ দায়ের করি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিনামূল্যে আইনি সহায়তার আওতায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিউলী বেগম আমাদের পক্ষে লড়াই করেন। লিগ্যাল এইডে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত হয় যে, আমার সৎ ভাই কেশব চন্দ্র শীল আমাকে প্রতি মাসে ভরণপোষণ ও হাত খরচ বাবদ ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা প্রদান করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমার সৎ ভাই আমাকে কোনো টাকা পয়সা দেননি।

তিনি বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করার পর, আমি ও আমার বড় বোন মনি রানী শীল কুমিল্লা নগরীর ৩নং ওয়ার্ড নিজ এলাকার সমাজ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার প্রার্থী হই। কালিয়াজুরী এলাকার সামাজিক বৈঠক বসে। হিন্দু আইন অনুযায়ী পিতা বা পরিবারের সম্পত্তিতে একজন প্রতিবন্ধী সন্তানের ভরণপোষণ পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সমাজ সেই নিয়ম মেনেই অভিযুক্ত কেশব শীলকে আমার ভরণপোষণ দিতে বলে। কিন্তু ভাই ও ভাবির ক্রমাগত মারধর এবং মেরে ফেলার হুমকির কারণে আমি তাদের সাথে থাকতে অস্বীকৃতি জানাই।

এমতাবস্থায়, আমাদের পৈতৃক ২৮ শতাংশ ভূমি- হতে সামাজিকভাবে আমার নামে ২ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু লোভী সৎ ভাই কেশব ও তার পরিবার এই সামান্য জমি দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।

শুধু তাই নয়, সমাজের লোকজন চলে যাওয়ার পর আমার সৎ ভাই, ভাবি ও তাদের সন্তানেরা মিলে আমাকে এবং আমার বোনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পৈতৃক ভিটের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে আমাদের হুমকি দেয়—যেন এই সীমানার আশেপাশে আমাদের আর কখনো না দেখা যায়।”

ইতি রানী শীল প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন করে বলেন, হিন্দু আইন অনুযায়ী একজন অবিবাহিত- প্রতিবন্ধী সন্তান কোনোভাবেই পৈতৃক আশ্রয় ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। আজ আমি নিজের ঘরেই পরবাসী। আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নিয়ে আমাকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমরা কোনো কূলকিনারা না পেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা মাননীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি ও ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক। লিগ্যাল এইডের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী এবং আমাকে, আমার বোনকে ঘরছাড়া করা নির্যাতনকারী সৎ ভাই কেশস চন্দ্র শীল ও তার স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শীল বাড়ির সর্দার নারায়ন চন্দ্র শীল, শুনিল চন্দ্র শীল, আশিস কুমার রায়,নিকিল চন্দ্র শীল, রেনু মিয়া এবং মিজানুর রহমানসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।