কুমিল্লার মুরাদনগরের এক অটোরিকশাচালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। গত ১৯ জুন বিকেলে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১০টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলে কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার কথা জানান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরদিন ২০ জুন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী গ্রামের পূর্বপাড়া ধরেরপাড় এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, নিহতের চোখ ও মাথা থেঁতলানো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহাবুব আলম ওরফে মাসুমের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় দুই ব্যক্তি একটি সন্দেহজনক অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা করছে।
খবর পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মো. নাঈম ইসলাম (২৩) নামে একজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পুলিশকে দেওয়া তথ্যে নাঈম জানান, তিনি ও তার সহযোগী মিলে মাসুমকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করেন।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত আরমান সরকার (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।












