কুমিল্লাসোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাঁধে নয়, মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে করা হলো দাফন 

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ১২, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি অটোরিকশায় করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে তাকে দাফন করা হয়। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা তিনটার দিকে ওই উপজেলায় মারা যান তিনি। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফোরকান (৬০)। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্যার পানিতে ফোরকানের ঘর, উঠান, পারিবারিক কবরস্থানসহ পুরো এলাকা ডুবে ছিল। এর মধ্যেই শুক্রবার সকালে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছও ধরেন ফোরকান। তবে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান তিনি। এরপর বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তবে ঘর-উঠান বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় নিজ বাড়িতে মরদেহের গোসল দেয়া সম্ভব হয়নি। পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করাও যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বন্যার কারণে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরের দস্তিদারহাটে নিয়ে গিয়ে ফোরকানের মরদেহের গোসল দেয়াসহ দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়। এরপর ওই এলাকার ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় রাত ১০টার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে সেখানে পাহাড়ের খাস জায়গায় দাফন করা হয় ফোরকানকে। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

মো. ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, বাড়ির পাশেই আমাদের পারিবারিক কবরস্থান আছে। আমার দাদা-দাদিসহ পরিবারের মৃত ব্যক্তিদের সেখানে কবর দেয়া হয়েছে। বাবাও বলতেন, তাকে যেন দাদা-দাদির পাশেই কবর দিই। কিন্তু বন্যার কারণে বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হলো না।

তিনি আরও বলেন, বাবা যখন মারা যান, তখন আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে কোমরসমান পানি ছিল। তাই বাবাকে দূরের পাহাড়ে কবর দিতে হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার বলেন, সাঙ্গু নদের সাতকানিয়া অংশে পানি এখনো বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাগরে উঁচু জোয়ার থাকায় এবং পাহাড়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি কমছে না।