টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে ঘুমন্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক নারী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত দেড়টার চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটার ডবল তলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মৃতরা শিশুরা হলো: স্থানীয় বাসিন্দা ওবাইদুল ইসলামের আবদুল মজিদের ছেলে ওবাইদুল ইসলাম (১৩) ও মো. কাজলের মেয়ে রুমী আক্তার (১৩)।
এ বিষয়ে বরতইলী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দু শুক্কুর বলেন, ‘ঘুমন্ত অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে বাড়ির পেছনের পাহাড়ধসে দুই শিশু ও এক নারী চাপা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক একজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে চাপা পড়া অবস্থা থেকে গ্রামবাসীরা দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহ বর্তমানে বাড়িতে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাত ৩টার দিকে খবর পাই। ঘটনাস্থল গভীর পাহাড়ি এলাকায়। সেখানে নৌকা কিংবা হেঁটে যেতে হয়। তারপরও আমরা স্থানীয়ভাবে পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরে যেতে সতর্ক করেছিলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও তারা সরেননি।’
ইউএনও জানান, আহত নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে।
এ নিয়ে গত চার দিনে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ রোহিঙ্গা।
এর আগে ৬ জুলাই দিবাগত রাতে টানা বর্ষণের মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিন পেকুয়া উপজেলায় পাহাড়ধসে বসতঘরের দেয়ালে চাপা পড়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।
এ দিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া গত রোববার থেকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৫০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। বর্তমানে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে।












