কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চৌদ্দগ্রামের গুনবতী-কালিয়ারতল সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৫:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গুনবতী-কালিয়ারতল ভাষা সৈনিক আহমেদ হোসেন চৌধুরী সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই নানানস্থানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও সড়কের অংশ স্বাভাবিকের চাইতেও ফুলে ফেঁপে উঠছে। দ্রুততর সময়ে কাজ শেষ করতে গত ৬ই সেপ্টেম্বর রাতভর তরিগড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জানান, কাজের ষ্টিমেটে মেকাডম ও খোয়া না থাকায় কিছু সমস্যা হয়। যা আমি সমাধানের চেষ্টা করছি।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নি¤œামানের বিটুমিন ও ডাষ্টযুক্ত পাথর ব্যবহারের ফলে সড়কটি টেকসই হচ্ছেনা। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই নির্মাণাধীণ অনেক অংশ কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। অনেকস্থানে খোয়ার সাথে কার্পেটিংয়ের পাথর কিংবা বিটুমিনের কোন সংযোগ দেখা যায়নি। ফলে পাথরগুলো আলাদা দেখা যাচ্ছে। এতে করে সামান্য বৃষ্টিতে কিংবা চাপেই পাথরগুলো সড়ে পড়তে পারে বলে ধারনা করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষন কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার গুনবতীর আল আমীন মার্কেট থেকে গুনবতী বড় মসজিদ পর্যন্ত ৩১০০ মিটার সড়কটির উন্নয়নে প্রাক্কলিক মূল্য ১৬৩,৮৫,৯৮৭ টাকা এবং চুক্তি মূল্য- ১,৫৫,৬৬,৬৮৭.৬৫ টাকায় টেন্ডারে কাজটি বরাদ্দ পায় মেসার্স হাসনাত কর্পোরেশন। চুক্তি অনুযায়ী কাজটি চলতি বছরের ১৯শে জানুয়ারী শুরু করে ০৪ মে ২০২৬ইং সনের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কটির অনেক স্থানে কার্পেটিংয়ে পাথরের গ্রেডেশান করে নাই, বিটুমিন ও মিক্সারেরও অবস্থা খারাপ। রাস্তায় সিল কোড না/খোয়া না থাকায় ময়ূরপুরের একটা অংশে, চাপাচৌ ও কর্তামের কিছু অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে। সড়কটির নির্মাণ কাজে অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মনজুর আহমেদ সাকি উল্লেখ করেন, সড়কটিতে রাতের বেলায় নি¤œমানের কার্পেটিং এর বিষয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় সিলকোড দিবেন বলে জানিয়েছেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসনাত কর্পোরেশন এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল হান্নান জানান, কাজের ষ্টিমেটে মেকাডম ও খোয়া না থাকায় কিংছু অংশে কার্পেটিংয়ে সমস্যা হয়। ৩১০০ মিটার সড়কের শুধুমাত্র কালিয়ারতল বাজার অংশে, চাপাচৌর অংশেসহ অন্তত ৫০০ মিটার অংশে মেকাডম ধরা হয় ষ্টিমেটে। কিন্তু আমি পুরো সড়কেই মেকাডম/খোয়া দিয়েছি। এরপরও যে ত্রুটি হয়েছে তা সমাধানে আমি চেষ্টা করছি। সম্পূর্ণ সমাধান করেই রাস্তার কাজ শেষ করা হবে।

উপজেলা এলজিইডি অফিসের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান জানান, সড়কটির বাজেট প্রণয়নের সময়ে মেকাডম/খোয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও ঢাকায় বরাদ্দের ষ্টিমেটে তা কেটে দেয়া হয়। বরাদ্দে কালিয়ারতল বাজারের অংশে শুধু খোয়ার ষ্টিমেট উল্লেখ ছিল ছিল। নির্মাণকাজে অনিয়মের স্থানগুলো মেরামত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ঠিকাদার তা মেরামতে কাজ করছেন।

এলজিইডির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান জানান, পাথরের গ্রেডেসানে সমস্যা থাকায় সড়কের কয়েকটি স্থানে কার্পেটিংয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী ঠিকাদার তা সমাধানে কাজ করছেন। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে কাজ শেষ করতে না পারলে বিল উত্তোলনের সুযোগ নাই।