বিদেশে পোশাক কারখানা, গৃহকর্মী বা বিউটি পার্লারে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক নারীকে জোরপূর্বক ডান্স ক্লাব ও যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে দুবাই ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় নারী পাঠিয়ে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে পাঠানোর পরও অনেক নারীকে জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এমনই একজন লিজা আক্তার। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারান পটুয়াখালীর লিজা আক্তার। বিয়ের পর স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের আশায় প্রায় দুই বছর আগে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে চারবার হাতবদল ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন তিনি। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন তাকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে পাঠায়। সম্প্রতি তিনি একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সেই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিজের জীবন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে লিজার।
দিলরুবা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী জানান, গৃহকর্মীর কাজের প্রলোভনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে তিনি মানবপাচারের শিকার হন। সেখানে তাকে একটি ক্লাবে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌনপেশায় যুক্ত করা হয়। আট মাস ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি কোনো বেতন পাননি। পরে কৌশলে সেখান থেকে বের হতে পারলেও মিথ্যা অভিযোগে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
বিধবা সাহারা বেগম তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতকে দুবাইয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের প্রলোভনে বিদেশে পাঠান। সেখানে গিয়ে জান্নাত নির্যাতন ও জোরপূর্বক শোষণের শিকার হয়। মেয়ের ফোন পেয়ে সাহারা বেগম থানায় অভিযোগ করেন এবং পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তা নেন। র্যাব অভিযুক্ত দালালদের গ্রেপ্তার করলেও নানা চাপের কারণে মামলাটি জটিল হয়ে পড়ে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জান্নাত ন্যায়ের প্রত্যাশায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
নোয়াখালীর পহেলী আক্তার পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় বিদেশে কাজ করতে যান। তাকে দুবাইয়ের একটি বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয় এবং তাকে নাইটক্লাবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অমানবিক নির্যাতনের মধ্যে প্রায় নয় মাস বন্দিদশায় থাকার পর পরিবারের উদ্যোগে ব্র্যাকের সহায়তায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। দেশে ফিরে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করলে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।











