কুমিল্লাবুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাঠে ফিরেই মেসির গোল, দারুণ জয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ আর্জেন্টিনার

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুন ১০, ২০২৬ ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতিটা ভালোই হলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। হন্ডুরাসের পর আইসল্যান্ডকেও সহজেই হারাল লিওনেল স্ক্যালোনির দল। তবে জয়ের চেয়েও বড় স্বস্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসির চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা। এমএলএসে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে পায়ের পেশির অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক, যা শঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের। তবে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মেসি মাঠে তো ফিরলেন তো বটেই, পেলেন গোলের দেখাও।

বুধবার (১০ জুন)  জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে ভ্যালেন্টিন বার্কো দারুণ এক গোলে ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে স্পটকিক থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। আর নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ৪ মিনিট আগে আইসল্যান্ডের জালে বল পাঠান থিয়াগো আলমাদা।


দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্টিনেজ ও আলেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার ফাঁকা পোস্টে বল পাঠাতে ব্যর্থ না হলে আলবিসেলেস্তেদের জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা উপহার দিয়েছে তাদের চিরায়ত ছোট পাসের সুন্দর ফুটবল। একই সঙ্গে দ্রুত কাউন্টারে ওঠায়ও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে স্ক্যালোনির দল।

শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া আর্জেন্টিনা ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই লিড পায়। আইসল্যান্ডের ডি-বক্সের ভেতরে জটলার মধ্য থেকে বল ক্লিয়ার করলে তা বক্সের বাইরে পান বার্কো। বাঁ পায়ের ভেতরের অংশের জোরাল শটে বল জালে পাঠান এই তরুণ মিডফিল্ডার। আর্জেন্টিনার জার্সিতে চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নেমে দ্বিতীয় গোলের দেখা পেলেন স্ট্রসবার্গের এই মিডফিল্ডার।


প্রথমার্ধে আর গোল না পেলেও লিড ধরে রেখেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। এই অর্ধে বার্কো ছাড়াও নজরকাড়া ফুটবল খেলেছেন মেসির জায়গায় নামা নিকো পাজ। ৪০ মিনিটে কোমোর এই মিডফিল্ডারের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক। 


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে তুলে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে মাঠে নামান স্ক্যালোনি। একই সঙ্গে ফ্লাকো গোমেজকে তুলে স্ট্রাইকার হিসেবে লাউতারো মার্টিনেজ এবং গোলদাতা বার্কোর বদলে রদ্রিগো ডি পলকে নামানো হয়।


দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। এই অর্ধে প্রথম বড় সুযোগ আসে ৫৬ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাকে বল পেয়ে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে নিকো পাস বাঁয়ে ফাঁকা জায়গায় বল বাড়ান। দৌড়ে কাছাকাছি পৌঁছেও পা লাগাতে ব্যর্থ হন লাউতারো। ফাঁকা গোলে অবিশ্বাস্যভাবে গোল করতে ব্যর্থ হন ইন্টার মিলানের এই তারকা।


পরের মিনিটেই নিকো পাজকে তুলে থিয়াগো আলমাদাকে এবং নিকোলাস ওতামেন্দিকে তুলে নিকো গঞ্জালেসকে নামানো হয়। 


৫৮ মিনিটে ম্যাক-অ্যালিস্টারের শত ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গ্রদুর ম্যাগনুসন। এর তিন মিনিট পর অবিশ্বাস্য মিস করেন ম্যাক-অ্যালিস্টার। জুলিয়ানোর পাস ডি-বক্সে পেয়ে বাঁয়ে থাকা ম্যাক-অ্যালিস্টারকে বাড়িয়েছিলেন লাউতারো। গোলরক্ষককে একা পেয়েও লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার পোস্টে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। ৬৫ মিনিটে ওয়ান-ওয়ান সুযোগ পেয়ে নেয়া লাউতারোর শট পোস্টে লেগে নষ্ট হয়।


অবশেষে ৬৯ মিনিটে আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। জুলিয়ানো সিমিওনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। অগাস্টিন গিয়াইয়ের বদলি হিসেবে নামেন চোট কাটিয়ে ফেরা গনসালো মন্তিয়েল।


মাঠে নেমে প্রথম টাচেই লাউতারোকে দারুণ একটা বল বানিয়ে দিয়েছিলেন মেসি। আইসল্যান্ডের গোলরক্ষককে একা পেয়ে প্রথম টাচে ফ্লিক করলেও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি লাউতারো। তবে গোলরক্ষকের স্পর্শে এই স্ট্রাইকার পরে গেলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।


স্পটকিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি।

এরপর ৮৬ মিনিটে আইসল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক মারেন আলমাদা। এই গোলেও অবদান রেখেছেন মেসি। বল নিয়ে ওপরে উঠে তিনি ফরোয়ার্ড পাস দেন ডি পলকে। এরপর ডি পলের পাসে ট্যাপ ইনে বাকি কাজ সারেন আলমাদা।

এই জয়েই প্রস্তুতি শেষ আর্জেন্টিনার। আগামী ১৭ জুন কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।