কুমিল্লাশনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পেলো না বাংলাদেশি জাহাজ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ১০, ২০২৬ ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পেলো না বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ৪০ দিন ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা জাহাজ চালিয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে কাছাকাছি এসে পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এ বিষয় বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে। জয়যাত্রা এখনও হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজার বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুত আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে তার জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা ইতিমধ্যে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছি। এ ছাড়াও বেসিকের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।’


জানা যায়,  ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে বাংলার জয়যাত্রা। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।


এদিকে, রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র জানায়, যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১৫টির বেশি জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেবে না তেহরান। প্রতিটি যাতায়াতের জন্য ইরানের অনুমোদন এবং একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলতে হবে।


সূত্রটি জানায়, ‘বর্তমান যুদ্ধবিরতির অধীনে প্রতিদিন ১৫টির কম জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এই চলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট প্রটোকল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। এই নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় আর ফিরে যাওয়া হবে না।’

 
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়।

কুমিল্লা প্রেস সংবাদ দেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সাবস্ক্রাইব করে কুমিল্লা প্রেসের সাথেই থাকুন।