কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সবার চোখ যখন ইরানে, মিসাইল পরীক্ষা চালিয়েই যাচ্ছেন কিম জং উন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো অঞ্চল আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। একদিকে লেবাননে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল, অন্যদিকে সৌদি আরব থেকে এসেছে ইরানের হামলার খবর।

ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননকে সেই চুক্তির অংশ তারা মনে করে না। এরপরই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে একাধিক স্থানে শতাধিক বোমা ফেলা হয়। এতে অন্তত ৮৯ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলের এই অবস্থান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। ইরানও আগেই সতর্ক করেছিল, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ফলে শুরু থেকেই এই সমঝোতা ভঙ্গুর হয়ে ওঠে।

এরই মধ্যে সৌদি আরবেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। জ্বালানি খাতের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে এই পাইপলাইনই সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথে ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হচ্ছিল। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটি দেশটির তেল রপ্তানির ‘লাইফলাইন’ হয়ে ওঠে।

এই হামলার ফলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র আকার নিতে পারে।

এই হামলার ফলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র আকার নিতে পারে।

পরিস্থিতির আরেকটি বড় দিক হলো হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এটি খোলার আলোচনা থাকলেও বাস্তবে এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। ফলে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বদলে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক অবস্থান, ইরানের পাল্টা হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্তৃত সংঘাত—সবকিছু মিলিয়ে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।