কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সবার চোখ যখন ইরানে, মিসাইল পরীক্ষা চালিয়েই যাচ্ছেন কিম জং উন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলের দিকের সমুদ্রসীমায় একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর প্রধান কার্যালয় (জেসিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টা ২০ মিনিটে উনসান এলাকা থেকে পূর্ব উপকূলের দিকে সমুদ্রসীমায় একটি অতিরিক্ত অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

এর এক দিন আগে একই এলাকা থেকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল পিয়ংইয়ং। জেসিএস জানায়, সেগুলো প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, তারা এ নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

তবে জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের প্রায় ১০ মিনিট পরই সাগরে পড়ে যায়। টোকিও বলেছে, কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই তাদের আঞ্চলিক জলসীমা বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশ করেনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বদিকে উড়লেও উড্ডয়নের প্রাথমিক পর্যায়েই ‘অস্বাভাবিকতার’ লক্ষণ দেখা যায় এবং পরে তা রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

এই উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের এ ধরনের পদক্ষেপ ‘অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ব্লু হাউস জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে আগের উৎক্ষেপণগুলোর ব্যাপারে বলা হয়েছে, সেগুলো ছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে করা উসকানি। পিয়ংইয়ংকে এ ধরনের পরীক্ষা বন্ধ করার আহ্বানও জানানো হয়।

এগুলো চলতি বছরে উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ। এর আগে জানুয়ারিতে দুটি এবং মার্চে আরেকটি পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরীক্ষা এখন কিম জং উনের অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে। সিউলের উত্তর কোরিয়া স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিম দং-ইয়ুপ বলেন, নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা ‘ইঞ্জিন ও প্রপালশন প্রযুক্তি উন্নয়ন, বিশেষ করে সলিড-ফুয়েল ব্যবস্থার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত’ হতে পারে।

এই উৎক্ষেপণের সময় উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি পরস্পরবিরোধী বার্তাও দেওয়া হয়েছে। কখনো তারা সংলাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে, আবার কখনো তা প্রত্যাখ্যান করছে।

দুই দিন আগে কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় বেসামরিক ড্রোন প্রবেশ ঠেকাতে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন লি জে মিয়ং, সেগুলো ‘খুবই সুবিধাজনক ও বুদ্ধিমানের কাজ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যক্তিদের ড্রোন উড্ডয়নের ঘটনায় অনুশোচনা প্রকাশ করায় লি ‘সৎ ও সাহসী মানুষ’ হিসেবে পরিচিত হয়েছেন।

কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাং কুম চোল বলেন, সিউল যদি মনে করে পিয়ংইয়ং তাদের শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করবে, তবে তা হবে কল্পনাপ্রসূত চিন্তা। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-র এক প্রতিবেদনে জাং বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার কাছে সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার পরিচয় কোনো বক্তব্য বা আচরণ দিয়ে বদলানো যাবে না।’

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতিতে শেষ হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি হয়নি। ফলে দুই কোরিয়া তাত্ত্বিকভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থাতেই রয়েছে।