লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বের হয়ে যাবে ইরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের ১০ দফার যে আলোচনার রূপরেখা তৈরি হয়েছে, তাতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এক অপরিহার্য শর্ত হিসেবে জুড়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বুধবার এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করেন তিনি। ইরানি প্রেসিডেন্ট জানান, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে যুদ্ধবিরতির এই সমঝোতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে, ইরান একটি ‘দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী অবস্থানের’ অংশ হিসেবে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এই চুক্তির কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তেহরানের মতে, লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনা পূর্ণতা পাবে না।
উল্লেখ্য, লেবাননজুড়ে বুধবার ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ৮৯ জন নিহত এবং ৭০০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে এই হামলা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পিবিএস-এর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি লিজ ল্যান্ডার্সকে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে ‘অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’ অথচ ইরানের যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার ১০ দাবির মধ্যে একটি ছিল, লেবাননে হামলা চালানো যাবে না।
ট্রাম্পের মতে, হিজবুল্লাহর উপস্থিতির কারণেই লেবানন এই চুক্তির বাইরে থাকবে। তিনি হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে বলেন, তাদের বিষয়টি ‘আলাদাভাবে দেখা হবে’। এমনকি লেবাননে ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী হামলাকে তিনি একটি ‘আলাদা খণ্ডযুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এর আগে, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েল জানিয়েছিল, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতিতে তারা সম্মত হলেও এই চুক্তির মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছে ইসরায়েল।
এদিকে, আজ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই ইরানের লাভান দ্বীপে একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়, যদিও এই হামলা কে চালিয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইরান।
এরপর ইসরায়েল ‘ইটারনাল ডার্কনেস’ (চিরন্তন অন্ধকার) ছদ্মনামের একটি অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের ১০০টি স্থানে ১৬০টি বোমা হামলা করে ইসরায়েল।
ইরানও পাল্টা জবাব দিয়েছে। ইতোমধ্যেই ইরাক, কুয়েত ও কাতারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পর আবারও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছি মোজতবা খামেনির দেশ। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।














