হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গি আর গ্রামের সহজ-সরল ভাষায় এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরে ‘লাইভ’ আদলে ভিডিও তৈরি করছেন তাইজুল ইসলাম তাজু। সেসব কন্টেন্ট নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করতেই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে পড়েন তিনি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও তার জীবনের রূঢ় বাস্তবতা বদলায়নি; অভাব-অনটন এখনও তার নিত্যসঙ্গী।
এরপর থেকে গ্রামের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একের পর এক ভিডিও তৈরি করতে থাকেন তাজু। তার সরল উপস্থাপনা ও আবেগঘন বক্তব্য সাধারণ মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।
চারদিকে নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল নাগেশ্বরীর এই গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ ও তাহেরা দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় সন্তান তাইজুল ইসলাম তাজু। নদীভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে তার পরিবার।
অভাবের সংসারে টিকতে পারেনি তাজুর দাম্পত্য জীবনও। অসুস্থ বাবা-মা ও দুই ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবেই কাজ করে আসছেন তিনি। মাত্র ৮ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও তৈরি করে নিজের জীবনসংগ্রামের কথাও তুলে ধরতেন তিনি। মনের কষ্ট ভুলে থাকতেই প্রায় দেড় বছর আগে থেকে ভিডিও বানানো শুরু করেন তাজু।
তাইজুল ইসলাম তাজু বলেন, ‘মানুষ ভালোবাসা দিছে, ভিডিও ভাইরাল হইছে। কিন্তু আমার তো এখনো কষ্টই কমে নাই। পেজে মনিটাইজেশন নাই, আয়ও নাই। সংসার চালানো কষ্ট হয়। চিন্তা করছি, আবারও ঢাকা গিয়ে কাজ করব। কাজ না করলে তো আর পরিবারে ভাত জুটবে না।’
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল বলেন, ‘তাজু আমাদের এলাকার গর্ব। ওর সরলতা আর প্রতিভাকে সম্মান করা উচিত। কেউ যেন তাকে নিয়ে ট্রোল না করে। বরং সবাই তার পাশে দাঁড়ালে সে উপকৃত হবে। ও খুব সহজ ভাষায় আমাদের এলাকার কথা বলে, তাই মানুষ পছন্দ করে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম জানান, নদীভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে তাজুর পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে তার এই অর্জনকে সম্মান জানিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি।
জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও নিজের প্রচেষ্টায় সামাজিক মাধ্যমে জায়গা করে নেয়া এই তরুণ এখন মানুষের ভালোবাসাকেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি হিসেবে দেখছেন।














