ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাব এখন আর মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সরাসরি অভিঘাত পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট গভীরতর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৮০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যুদ্ধনীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে এবং রাজনৈতিক চাপও তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করে জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, যা দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।
একই সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর প্রভাব শুধু ইরান নয়, গোটা অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, যা নতুন করে শরণার্থী সংকট সৃষ্টি করছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেরুকরণও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


.












