কুমিল্লাশনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ২৮, ২০২৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পুনর্লিখিত সংবাদ (জাতীয় পত্রিকার ধাঁচে):

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর থেকে এটি কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। প্রণালীর দুই প্রান্তে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে আছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।

ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। যদিও আনুষ্ঠানিক আইন পাস হয়নি, এরই মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও ফি আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে শুল্ক নেওয়া স্বাভাবিক। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাহাজের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভারতসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ শর্তসাপেক্ষে পারাপারের অনুমতি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে পড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সংকট ও শিল্প উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ বিকল্প রুট ব্যবহার বা কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালালেও হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানো সহজ নয়।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক চাপ’ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উত্তেজনা আরও বাড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্য ও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

.