পুনর্লিখিত সংবাদ (জাতীয় পত্রিকার ধাঁচে):
হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দ্বীপটি এখন সামরিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছে। বিশেষ করে দ্বীপটির ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও অবস্থানগত সুবিধা একে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অদ্ভুত শিলা গঠন ও ম্যানগ্রোভ বনের জন্য পরিচিত এই দ্বীপ এখন ইরানের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে গড়ে তোলা ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল শহর’ ইরানের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতার বড় ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থান করায় প্রায় ১ হাজার ৪৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপ বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। ফলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর দ্বীপটির পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে এটি ছিল মুক্তবাণিজ্য ও পর্যটনের কেন্দ্র, এখন সেখানে সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে দ্বীপের একটি পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মানবিক সংকটও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কেশমে ইরানের নৌবাহিনী ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ গোপনে অবস্থান করছে। এ কারণে দ্বীপটিকে অনেকেই ‘অডুবন্ত বিমানবাহী জাহাজ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার সক্ষমতাও এখান থেকে পরিচালিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলেও পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক ক্ষেত্রে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
তবে সামরিক গুরুত্বের পাশাপাশি কেশম দ্বীপ এখনও তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রেখেছে। দ্বীপটিতে রয়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত জিওপার্ক, ম্যানগ্রোভ বন এবং বিশ্বের দীর্ঘতম লবণ গুহাগুলোর একটি।
সব মিলিয়ে কেশম এখন শুধু একটি দ্বীপ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।


.












