কুমিল্লামঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তেহরানের পারমাণবিক গবেষণাগারে হামলা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ১০, ২০২৬ ৩:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে তীব্র বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পারমাণবিক গবেষণাগারসহ শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকাতেও হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছে।

গত রাতে তেহরানে হামলার সময় ইসরায়েল পারমাণবিক গবেষণাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২–এর উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই হামলার একটিতে অন্তত ৪০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। জানা গেছে, হামলা সামরিক সদর দপ্তরের বদলে আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। ফলে তেহরানের সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

বর্তমানে তেহরানে বৃষ্টি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জনগণকে বৃষ্টিতে না ভেজার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতে, তেল স্থাপনায় হামলার পর শহরের বাতাস দূষিত হয়ে গেছে এবং সেই দূষিত বাতাসের কারণে বৃষ্টির পানিও দূষিত হতে পারে।

তেহরানের বাইরে অন্যান্য শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কিছু দেশ পরিস্থিতি শিথিল করার চেষ্টা করলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে এক বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ বের করছেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা গভীর শোক ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল খুঁজে বের করার অভিযান চালাবে। এক্সে প্রকাশিত পোস্টে সেন্টকম জানায়, ‘আমরা যতক্ষণ এগুলো খুঁজে পাব, ততক্ষণ সেগুলো ধ্বংস করা হবে।’ এটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানে হামলা ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ইরানের সামরিক ও প্রযুক্তিগত স্থাপনার ওপর আঘাত করার লক্ষ্য বহন করে। তবে সাধারণ নাগরিক ও আবাসিক এলাকায় আঘাতের কারণে পরিস্থিতি মানবিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি পরিষেবা তৎপর থাকলেও প্রচণ্ড আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই ভাঙাচোরা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তেহরানে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আরও ব্যাপক মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।

.