কুমিল্লামঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওষুধের বাজারে অস্থিরতা: দাম ও সংকটে ভোগান্তিতে রোগীরা, কারণ নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ১০, ২০২৬ ২:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশে জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন ওষুধের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারে অনেক জরুরি ওষুধের সংকট দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, গত এক বছরে ওষুধের দাম বাড়েনি। তবে বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে রোগী ও ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য এক ফার্মেসি থেকে অন্য ফার্মেসিতে ঘুরেও অনেক সময় তা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছে বেশি দাম। ২৩ বছর বয়সী নাফি জানান, ‘মিথাইফেনটেন’ নামের একটি ওষুধের দাম আগে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করা হয়। পরে বাজারে সরবরাহ সীমিত হয়ে গেলে ১৫–২০ পিস ওষুধ কিনতে প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে।

শুধু একটি ওষুধ নয়, ক্যানসার, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ওষুধ কিনতেও এখন রোগীদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। গত কয়েক মাসে অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন ও হৃদরোগের কিছু ওষুধের দাম ৩০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর এক–দুটি ট্যাবলেট প্রয়োজন হলেও পুরো বক্স কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সরকার ইতোমধ্যে ২৯৫টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সেগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বাজারে তার প্রতিফলন স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

এ বিষয়ে Directorate General of Drug Administration–এর পরিচালক Dr. Akhtar Hossain বলেন, গত এক বছরে কোনো ওষুধের দাম বাড়েনি। নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানিকে তথ্য দিতে হয় এবং অনুমোদনের পরই নির্দিষ্ট দামে ওষুধ বাজারে ছাড়তে পারে। কোনো কোম্পানি নিজের ইচ্ছামতো দাম মুদ্রণ করে বাজারে ওষুধ ছাড়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে Bangladesh Association of Pharmaceutical Industries–এর মহাসচিব Md. Zakir Hossain বলেন, দেশে ২৬ থেকে ২৮ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে বছরে হয়তো ৫০ থেকে ১০০টির দাম সমন্বয় করা হয়, বাকিগুলোর দাম অপরিবর্তিত থাকে।

তবে ওষুধ ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের সংকটের কারণে গত দুই মাসে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বেড়েছে। কিছু ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ওষুধের দাম বাড়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ Dr. Lelin Chowdhury বলেন, বাস্তবে বাজারে দাম বাড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা অস্বীকার করছে। ওষুধ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলোকেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করলে বহুমুখী তদারকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ওষুধের বাজারে অস্থিরতা দূর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারির পাশাপাশি দ্রুত ওষুধের মূল্য নির্ধারণে পৃথক প্রাইসিং অথোরিটির কার্যক্রম চালু করা জরুরি। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রোগীদের ভোগান্তিও কমবে।

.