ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের তৃতীয় বর্ষের রসায়ন বিভাগের ছাত্র নুরুল্লাহ শাওন (২৬) ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে ছিনতাইকারী কিশোরদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান। বন্ধুরা একটি পক্ষ থেকে সাঁতরে নদ পার হতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ থাকেন। পরে শুক্রবার রাতে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাইকারী কিশোরদের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং তারা শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর একজনকে গ্রেপ্তার করে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে চেষ্টা চলছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা টাউন হল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালান। এসময় প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ বলেন, শহরে ছিনতাই ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ ঘটনার আগে এই বছরের শুরুতেই নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গ্যাং কালচারে যুক্ত হয়ে ছুরিকাঘাত ও মারধরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। স্থানীয়রা বলছেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের প্রভাবে শিক্ষার্থীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কিশোর দলটি সাধারণত সন্ধ্যার সময় শহরের কিছু এলাকায় ছিনতাই ও ভয় দেখানোর কাজে জড়িত। তাদের বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবার থেকে আসে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিশেষভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগরের সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারী দলের দৌরাত্ম্য এবং মাদক নিয়ে নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।












